জৈন ধর্ম

 জৈন ধর্ম একটি প্রাচীন ভারতীয় ধর্ম, যার মূল ভিত্তি হলো অহিংসা, সত্য, এবং সংযম। এর প্রতিষ্ঠাতা মহাবীর স্বামী (খ্রিস্টপূর্ব ৫৯৯-৫২৭) হলেও, জৈন ধর্ম অনুসারীরা বিশ্বাস করেন যে এটি আরও পুরনো এবং বহু তীর্থঙ্করদের দ্বারা প্রচারিত। জৈন ধর্মের কয়েকটি প্রধান বৈশিষ্ট্য নিম্নরূপ:


1. **তীর্থঙ্কর**: জৈন ধর্মে ২৪ জন তীর্থঙ্করের কথা বলা হয়েছে, যারা মোক্ষ বা মুক্তি অর্জনের পথপ্রদর্শক হিসেবে বিবেচিত। মহাবীর স্বামী এই ২৪ তম এবং শেষ তীর্থঙ্কর ছিলেন।


2. **পাঁচটি মহাব্রত**:

   - **অহিংসা**: প্রাণী, উদ্ভিদসহ জীবনের প্রতি কোনরূপ হিংসা না করা।

   - **সত্য**: সর্বদা সত্য বলা।

   - **অচৌর্য**: চুরি থেকে বিরত থাকা।

   - **ব্রহ্মচর্য**: ইন্দ্রিয়ের সংযম।

   - **অপরিগ্রহ**: সম্পত্তির প্রতি আসক্তি থেকে বিরত থাকা।


3. **আত্মা ও কর্ম**: জৈন ধর্মে আত্মাকে পবিত্র ও শুদ্ধ করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। কর্মের ধারণা অনুসারে, আত্মা কর্মের বন্ধনে আবদ্ধ থাকে, এবং কর্মফল আত্মার ওপর প্রভাব ফেলে।


4. **মোক্ষ**: আত্মার চিরস্থায়ী মুক্তি বা মোক্ষ হলো জৈন ধর্মের প্রধান লক্ষ্য। এটি অর্জন করতে হলে ব্যক্তিকে সংযম, ত্যাগ, এবং ধার্মিক জীবন যাপন করতে হয়।


5. **অহিংস জীবনযাপন**: জৈন ধর্মে সবধরনের হিংসা থেকে বিরত থাকার ওপর জোর দেওয়া হয়। অনেক জৈন ভক্ত নিরামিষ ভোজন করেন এবং এমনকি উদ্ভিদের প্রাণ সংরক্ষণের জন্য শাকসবজি ও ফল সংগ্রহের সময়ও সাবধানতা অবলম্বন করেন।


6. **দুটি প্রধান শাখা**: জৈন ধর্মে দুটি প্রধান শাখা রয়েছে: শ্বেতাম্বর এবং দিগম্বর। শ্বেতাম্বররা সাদা পোশাক পরিধান করেন এবং তাদের মতে মহাবীরের কিছু শিষ্যা নারী ছিলেন। দিগম্বররা বস্ত্রহীন সাধনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ ত্যাগের প্রতীক মেনে চলেন।


7. **জৈন উৎসব**: পারিউষণ এবং মহাবীর জয়ন্তী হলো জৈন ধর্মের প্রধান উৎসব। পারিউষণ হলো আত্মশুদ্ধির উৎসব, যা আট দিন ধরে চলে এবং এতে উপবাস ও প্রার্থনা করা হয়।


জৈন ধর্মের মূল শিক্ষা হলো আত্মাকে পবিত্র করার মাধ্যমে মোক্ষের পথে চলা এবং অহিংসা, সত্য, ও সংযমের কঠোর নিয়ম মেনে চলা।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বৌদ্ধ ধর্ম

রসায়ন বিদ্যা

হিন্দু ধর্ম