দশ মহাবিদ্যা: তন্ত্রসাধনার দশ দেবীপ্রতিমা
দশ মহাবিদ্যা: তন্ত্রসাধনার দশ দেবীপ্রতিমা ভূমিকা: হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রে দশ মহাবিদ্যা (দশটি মহাজ্ঞান বা তত্ত্বপ্রতিমা) হলো দশটি প্রধান দেবী যাঁরা মহাশক্তির দশটি রূপ হিসেবে বিবেচিত। এঁরা তন্ত্রমার্গে সাধনার দশটি স্তর, দশটি দৃষ্টিভঙ্গি এবং দশটি শক্তির প্রকাশ। এই দশ দেবী হলেন—কালী, তারা, ছিন্নমস্তা, সিদ্ধিদাত্রী ভুবনেশ্বরী, ভৈরবী, ধূমাবতী, বগলা, মাতঙ্গী, কামলা এবং ত্রিপুরাসুন্দরী। ১. কালী – কালের অতীত শক্তি মূর্তি: কৃষ্ণবর্ণা, উন্মুক্ত কেশিনী, গলায় মুন্ডমালা, হাতে খড়গ ও কাটা মুণ্ডু। তাত্ত্বিক তাৎপর্য: সময়ের রূপ, মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মোক্ষের পথপ্রদর্শিকা। সাধনা: মহাকাল ও মহাকালিকা এই যুগ্মসত্তার আরাধনা, ভয় ও অহংকারের নাশ করে। ২. তারা – রক্ষাকর্ত্রী ও করুণাময়ী মূর্তি: গাঢ় নীলবর্ণা, শ্মশানবাসিনী, কণ্ঠে শিশুর প্রতীক, মুক্তির দেবী। তাত্ত্বিক তাৎপর্য: শূন্য থেকে সৃষ্টি, শব্দব্রহ্মের আধার। সাধনা: শব্দতত্ত্ব, উচ্ছ্বাস, ওম্কার ও বিম্বাকারের ধ্যান। ৩. ছিন্নমস্তা – আত্মবিলয়ের প্রতীক মূর্তি: নিজের মুণ্ড নিজেই কেটে ধরা, রক্তধারায় দুই দাসীর পিপাসা নিবারণ। তাত্ত্বিক তাৎপর্য...